যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির ওয়াশিংটন ডিসির প্রধান কার্যালয় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় সময় সোমবার থেকে হঠাৎ করেই সংস্থাটির কার্যালয় বন্ধ করে দেয়া হয়। এর আগে রোববার মধ্যরাতে সংস্থাটির কর্মীদের ই-মেইল বার্তায় অফিসে না এসে বাসায় থেকে কাজ করতে বলা হয়। খবর সিএনএন।
ই-মেইলে বলা হয়, ‘সংস্থার নেতৃত্বের নির্দেশনায় ওয়াশিংটন ডিসির রোনাল্ড রিগ্যান ভবনে অবস্থিত ইউএসএআইডির প্রধান কার্যালয় সংস্থার কর্মীদের জন্য সোমবার বন্ধ থাকবে। যেসব কর্মী প্রধান কার্যালয়ে কাজ করেন, তারা এদিন বাসা থেকে কাজ করবেন। তবে একান্ত প্রয়োজনে কোনো কর্মীকে কর্মস্থলে এবং ভবন রক্ষণাবেক্ষণের কাজে আসতে হলে জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করবেন।’
ট্রাম্প ও তার মিত্রদের মতে, ইউএসএআইডি অনেক বেশি পক্ষপাতদুষ্ট। সংস্থাটি ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সহানুভূতিশীল। গতকাল সকালে এক্স স্পেসে (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের লাইভ অডিও কথোপকথন) এক আলাপচারিতায় প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলোন মাস্ক বলেন, ‘সংস্থাটি বন্ধ করতে ট্রাম্প সম্মত হয়েছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে আমি কয়েকবার কথা বলেছি। ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, তিনি সংস্থাটি বন্ধ করতে চান।’
প্রসঙ্গত, এক্স ও টেসলার মালিক বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলোন মাস্ককে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সির (ডিওজিই) প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় ইউএসএআইডি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি একদল উগ্র উন্মাদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। আমরা তাদের বের করে আনছি এবং তারপর আমরা এর ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসিতে ইউএসএআইডির প্রধান কার্যালয়ের সংরক্ষিত এলাকায় ব্যয় সংকোচন-সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের সদস্যদের ঢুকতে দেননি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। এ ঘটনার পর একে ‘অপরাধী সংস্থা’ বলে আখ্যা দেন ইলোন মাস্ক। রোববার মাস্ক এক্সে লিখেছেন, ‘এটি (ইউএসএআইডি) বন্ধ করে দেয়ার সময় এসেছে।’
ইউএসএআইডি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। সংস্থাটি প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বিশাল অঙ্কের তহবিল পায়। তবে সম্প্রতি এর তহবিল আটকে দেয়ার পর থেকেই সংস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।